মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ভাষা ও সংস্কৃতি

আবহমানকাল ধরে মুসলিম,হিন্দু,বৌদ্ধ,খৃস্টান,আদিবাসী ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সহাবস্থানে এ অঞ্চলে অর্পূব এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংস্কৃতি বিরাজ করছে।তবে অন্যান্য অঞ্চলের মত এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যেও আচার-ব্যবহার,অভ্যাস,রীতিনীতি,চলাফেরা,ধ্যান-ধারনায় ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

ক. গ্রামের নামে প্রাচীনত্বঃ বঠিনা, ডহুরা, ডবরা, ডিবোর, বাংরোট, রাউতাই, ঠুমনিয়া, নিবাটুঙ্গি, লাউথুতি, সান্ত্রাই।

            খ. মানুষের নামে প্রাচীনত্বঃ কুঠু, ঢাডু, ডকা, গাঁঠু, ডডি, ঢেরু, ধেড়পা (তুলনীয় চর্যাপদের হাপা) ডুকুরু (তুলনীয় চর্যাপদের ভুসুকু) ডুংলু টুনকু, বং (বংগোষ্ঠী? ) বাংবু (বেটে)

গ. শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনের সঙ্গে তুলনাঃ বুঢ়া [বংশীখন্ড, ১২] কাঢ়ে (বংশীখন্ড ২৮] নারীক, মোহর, বাশীতু করিবো, ঝুরে পাসরি, তহি (এ অঞ্চলে হি) ঝুটা, যাহু, নেও, কহু, ঘরত ইত্যাদি।

এই জনপদে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের সামাজিক সম্বোধনের রূপ অন্যান্য এলাকার মতোই স্বতন্ত্র। তবে নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুদের সম্বোধনের প্রকৃতি কিছুটা ভিন্নধর্মী। যেমন-মুসলমান দাদী, হিন্দু ঠাকুরমা, নিম্নশ্রেণী-বাই। মুসলমান দুলাভাই/ভাই সাহেব, হিন্দু জামাই বাবু, নিম্নশ্রেণী-বহিনা/আনু। মু-ভাবী, হি-বৌদী, নি, শ্রে-ভৌজি। স্বামী, অর্থে ভাতার শব্দটি এ অঞ্চলে বহুল প্রচলিত। বলাবাহুল্য এটি প্রাচীন বাংলা শব্দ। বিবাহ শব্দটির এই অঞ্চলের পরিচিত রূপ বিহা। নিম্নশ্রেণীর হিন্দুদের মধ্যে বিবাহের বিকল্প শব্দ ‘বেচে খাওয়া’ এটিও বহু উচ্চারিত। পূর্বে মেয়ে পক্ষ পণ নিতো; শব্দটিতে সেই স্মৃতি বিজড়িত। প্রাচীন বাংলা রূপের ন্যায় বিধবা শব্দের প্রচলিত রূপ এখানে ‘রাঢ়ি’ বা ‘আড়ি’।

 নিম্নশ্রেণীর হিন্দুদের মধ্যে তালব্য-শ’ ধ্বনির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষনীয়। যেমন : কহিশিত, গেইশিত্, খাইশিত।

 সীমান্তবর্তী অঞ্চলে (পশ্চিমাঞ্চল) ক্রিয়াপদের অমেত্ম ল ধ্বনির দ্বিত্ব ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত। যেমন : কোহিল্ল, খাইল্ল, মারিল্ল।


Share with :

Facebook Twitter